সিফিলিস রোগ ও এর প্রতিকার
বর্ননা :- সিফিলিস বা উপদংশের বাংলা নাম গর্মি পীড়া । সিফিলিস পীড়াগ্রস্হ পুরুষের সাথে মে
য়ের বা সিফিলিস পীড়া গ্রস্হ মেয়ের সাথে পুরুষ মেলামেশা করিলে এই রোগে আক্রান্ত হইয়া থাকে, অর্থাৎ সিফিলিস রোগগ্রস্হ্য পুরুষ ও স্ত্রীর সহবাস হলে এই রোগ জম্মে ।
লক্ষনঃ- রোগের প্রথম অবস্হা ১০ দিন হইতে ৪৫ দিনের মধ্যে জননেণ্দ্রিয়ে একটি ফুস্কুরি জম্মে । ইহা ক্রমশ বর্দ্ধিত হইতে থাকে এবং তাহাতে উত্তাপ ও বেদনা হয় । পরে ঐ ফুস্কুরি ক্ষতরুপে প্রকাশ পায় এবং ঐ ক্ষতের মধ্যস্হল গভীর হইয়া যায় । এই ক্ষত হইতে রস নির্গত হয় । জননেণ্দ্রিয়ে অসহ্য যণ্ত্রনা হয় , জননেণ্দ্রিয় ফুলিয়া উঠে । ক্ষত অত্যধিক বৄদ্ধি পইলে জননেণ্দ্রিয় পঁচিতে আরম্ভ করে । রোগীর শরীরে জ্বর ভাব বা জ্বর কখন ও বা প্রবল জ্বর হয় ।
দ্বিতীয় অবস্হা :- শরীর কৄশ ও রক্তশূন্য হয় । সব শরীরে পীড়কা(eruption) প্রকাশ পায় । রোগীর মাথার চুল উঠিতে আরম্ভ করে, হাতে বেদনা হয় । আলাজিহ্বার দুই পার্শ্বে ক্ষত হয় । শরীরের নানা স্হানের গ্রণ্হি বৄদ্ধি প্রাপ্ত হয় ।রোগীর চক্ষু রোগ জন্মে ।
তৄতীয় অবস্হা :- এই সময় ইহা শরীরের যে কোন অংশ বা যন্ত্র আক্রমন করিতে পারে । গাত্রচর্ম, শ্লেষ্মিকঝিল্লি(mucous membrane), স্নায়ু সমূহ বিশেষত: মস্তিস্ক আক্রান্ত হয় । শরীরের স্হানে স্হানে গোটা উৎপণ্ন হয় এবং পরে তাহাতে ক্ষত জম্মে ।উহাতে যাতনা থাকে । বাতরোগ হাত পা ফুলা, হৄদরোগ, স্নায়ুশুল, যক্ষ্মা, নাকে ক্ষত, মুখক্ষত, মলদ্বারক্ষত ইত্যাদি জন্মে । নাসিকার ভিতর ক্ষত হইলে নাক খসিয়া পড়ে । অণ্ডকোষ শক্ত হয় ।স্ত্রী সহবাসে শক্তি থাকে না । স্ত্রী লোকের ডিম্বাশয়(ovaries) আক্রান্ত হয় । গর্ভধারন নষ্ট হয় ।
পৈএিক সিফিলিসঃ- স্বামী বা স্ত্রী সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হলে তদাবস্হায় উভয়ের সহবাসে যদি গর্ভ সঞ্চার হয়, তাহা হইলে অনেক স্হলে গর্ভ ধারিনীর ৫ম বা ৬ষ্ঠ মাসে গর্ভস্রাব হইয়া থাকে অথবা পূন গর্ভাবস্হায় মৃত সন্তান ভূমিষ্ট হয় ।জীবিত সন্তান ভূমিষ্ট হইলে একমাস বা দেড় মাসের শিশুর শরীর কৃশ হয় ও নাসারণ্দ্রে নানা প্রকার পীড়া প্রকাশ পাইয়া থাকে । শিশু ক্রমশ মলিন হয় এবং অল্প দিনের মধ্যেই কটির নিম্ম ভাগে, গুহ্যদেশের চর্তুদিকে ও গায়ে তাম্র বর্নের স্ফোটক প্রকাশ পায় এবং ঘাড়ে, গলায় ও অণ্যান্য সন্ধিতে দাগ লক্ষিত হয় ।মুখের ভিতরে ও বাহিরে ক্ষত প্রকাশ পায়, ওষ্ঠ ও নাসিকা ফাটিয়া যায়, চর্ম আকুঞ্চিত হয় | এই সময়ে যথারীতি চিকিৎসা না করিলে অনেক স্হলে শিশুর মৃত্যু হইয়া থাকে । জীবিত থাকিলে ও যে কয়দিন জীবিত থাকে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করে ।
যাহারা লজ্জা বা গুরুজনের ভয়ে রোগের কথা প্রকাশ না করিয়া রোগটিকে কঠিন করিয়া ফেলেন, তাহাদিগকে বলা আবশ্যক যে, এই রোগটিকে গোপন রাখা যায় না । পরিনামে এরূপ অবস্হা জম্মে, যাহা সর্ব জনসমক্ষে নিজেই - নিজেকে প্রকাশ করিয়া দেয় । ইহাতে চিরদিনের জন্য স্বাস্হ্য নষ্ট, সর্ব প্রকার সূখ ভোগ হইতে চির দিনের জন্য বঞ্চিত থাকিতে দেখা গিয়াছে । রোগী মাত্রই জানা উচিৎ যে, রোগ আরোগ্য অসাধ্য নয় ।নীচের চিকিৎসা প্রনালী অনুযায়ী রোগ আরোগ্য অতি সহজে করা যায় ।
চিকিৎসা পদ্ধতি :- ০১ । Arsenic alb :- রোগীর কোমল উপদংশ ক্ষতে ইহা উপকারী । ক্ষতে অত্যাণ্ত জ্বালা জনক বেদনা থাকে, ক্ষত পঁচতে শুরু হয় ।স্রাব ক্ষতি কারক, উত্তাপে যন্ত্রনার উপসম, রোগীর অস্হিরতা, চটপটানী, অবসণ্নতা এবং মৃত্যু ভয় অতিশয় প্রবল । পূনঃ পূনঃ সামান্য পরিমানে জল পানের আকাংখা থাকে ।
সেবন বিধিঃ- তরুন রোগে 3x শক্তির ১ মাত্রা করে ৩/৪ ঘণ্টা পর পর সেবনের পর ক্রমশঃ 3০, 2c, 1m শক্তির কয়েক মাত্রা সেব্য । তো শক্তিকৃত ঔষধের প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করে সেবন করিতে হবে ।
০২ ।Mercurius sol :- ইহা সিফিলিস রোগের দ্বিতীয় অবস্হা। লিঙ্গ মুণ্ডে ক্ষত প্রকাশ পায় এবং রোগীর জিহ্বা মোটা অনূভব হয় ও সাদা বর্নের ক্লেদাবৃত থাকে, জিহ্বা রসালো থাকা সত্ত্বে ও পূনঃ পূনঃ পানি পানের পিপাসা থাকে, প্রচুর ঘামে, অনেক সময় ঘুমের ঘোরে প্রচুর লালা পড়ে বালিশ ভিজে যায় । নিঃশ্বাসে ও মুখ থেকে অত্যাণ্ত দূর্গণ্ধ বের হয় । বিছানার গরমে রোগ লক্ষন বৃদ্ধি পায় ইত্যাদিতে ইহা খুব উপকারি ঔষধ ।
অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মূএদ্বার দিয়া বির্য আকারের সাদা সাদা ফোটায় ফোটায় পূঁজ মূত্রদ্বারে জমা হইয়া সারাক্ষন-ই ঝরতে থাকে ।এ ক্ষেএে না দেখে বিষয়টি অনুভব করা যায় না । যদি নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে একমাত্র Merc. sol- ই সূনির্দিষ্ট ঔষধ। সাধারনতঃ ২/৩ টি ডোজ দিলেই রোগী ভালো হয়ে যায় ।
০৩ । Calotropis Gig :- ক্ষত স্হানের মাংস খসিয়া পড়িলে ইহা ব্যাবহারে ক্ষতস্হানে নতুন মাংস হইয়া পূর্ন হয় । উপদংশ পীড়ায় Merc sol ই উৎকৃষ্ট ঔষধ । যদি Merc sol ব্যবহারে উপকার পাওয়া না যায়, তা হলে Secandary stage - এ ইহা ব্যাবহারে উপকার পাওয়া যায় ।
০৪ । Acid nit :- সিফিলিসের ক্ষতে খোচা মারা ব্যাথা তথায় Acid nit -2c,







0 Comments